নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে কেন্দ্র সরকার নতুন নিয়ম চালু করেছে। একইসঙ্গে পাসপোর্ট ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে একাধিক কড়া বিধিনিষেধ। ২০২৬ সালের সংশোধিত নিয়মে ডিজিটালাইজেশন যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই বেড়েছে নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়ার কঠোরতা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি Citizenship (Amendment) Rules, 2026 জারি করে নাগরিকত্ব ও ওভারসিজেন সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব আবেদন ও ওভারসিজেন সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া সংক্রান্ত সমস্ত কাজ এখন থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে—নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য ও নথি এখন ডিজিটাল ফর্ম্যাটে সংরক্ষণ করা হবে, অর্থাৎ। ই-ওসিআই (e-OCI) চালু করার ফলে কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে।আবেদন, বাতিল বা ত্যাগ—সব প্রক্রিয়াই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে করতে হবে। তথ্য যাচাই ও ট্র্যাকিং আরও কঠোর করা হয়েছে, যাতে ভুয়ো আবেদন কমানো যায়। এছাড়াও, নতুন নিয়মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন কোনও নাবালক একই সঙ্গে ভারতীয় পাসপোর্ট ও অন্য দেশের পাসপোর্ট রাখতে পারবে না – যা কার্যত দ্বৈত নাগরিকত্বের অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ।
নাগরিকত্বের পাশাপাশি পাসপোর্ট ব্যবস্থাতেও এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন –
বায়োমেট্রিক চিপযুক্ত পাসপোর্ট চালু হওয়ায় নিরাপত্তা বাড়ছে এবং জালিয়াতি রোধ করা সহজ হচ্ছে। নতুনআবেদনকারীদের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ যাচাইয়ে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে, ফলে সময় কম লাগছে। পাসপোর্টে ঠিকানা বা অভিভাবকের নাম আর ছাপানো হচ্ছে না – ডেটা নিরাপত্তা বাড়াতে এই উদ্যোগ।
নতুন নিয়মগুলির মূল লক্ষ্য স্পষ্ট—স্বচ্ছতা, গতি ও নিরাপত্তা। ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালুর ফলে দুর্নীতি ও জটিলতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে কঠোর নিয়মের ফলে ভুয়ো নথি বা দ্বৈত পরিচয়ের অপব্যবহারও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের ফলে গ্রামীণ বা প্রযুক্তি-অপরিচিত মানুষের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই এই রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে সচেতনতা ও সহায়তা ব্যবস্থাও বাড়ানো জরুরি।নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট—দুই ক্ষেত্রেই এই নতুন নিয়ম ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে চলেছে। স্বচ্ছতা বাড়ানোর এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

