উত্তর ২৪ পরগনায় পেন কালচারের মাধ্যমে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমিতে মৎস্য চাষের সুস্থায়ী প্রচেষ্টা

জিরো নিউজ তৎকাল নিউজ ব্ল্যাক নিউজ হট টক হট নিউজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: জলাভূমিগুলি বৈচিত্র্যের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হলেও, সেগুলি মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই মৎস্য চাষে সহায়তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পুষ্টি চক্র ও জলবায়ুর স্থিতিস্থাপকতা এবং লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা নির্বাহের কথা মাথায় রেখে এই জলাভূমিগুলির প্রতি অবিলম্বে মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক। বাসস্থানের অবক্ষয়, বাছবিচারহীনভাবে মাছ ধরা, দূষণ, পুষ্টি উপাদানের আধিক্য, হাইড্রোলজিক্যাল বা জলে পরিবর্তন এবং জলবায়ু-জনিত চাপের কারণে জলাভূমিগুলিতে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। দেশীয় মাছের জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।এই ধরণের চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার জন্য, আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এর আর্থিক সহায়তায় সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার চামড়াদহ এবং সিন্দ্রানী জলাভূমিতে ছোট দেশীয় মাছের প্রজাতি সিস্টোমাস সারানা -র পেন-ভিত্তিক বা আবদ্ধ অবস্থায় পোনা লালন-পালনের একটি প্রদর্শনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল দেশীয় মাছের প্রাচুর্য পুনরুদ্ধার করা, সংস্কৃতি-ভিত্তিক মৎস্য চাষকে শক্তিশালী করা এবং জলাভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা।এই হস্তক্ষেপটি জলাভূমি-ভিত্তিক পোনা উৎপাদন এবং জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের জন্য পেন কালচার (খাঁচা বা বেষ্টনী পদ্ধতি) প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে। বৈজ্ঞানিকভাবে ডিজাইন করা পেনের মধ্যে মাছের পোনাকে ফ্রাই থেকে অ্যাডভান্সড ফিঙ্গারলিং এবং গ্রো-আউট পর্যায় পর্যন্ত লালন-পালন করা হয়েছিল, যা জলাভূমির মানোন্নয়নের জন্য গুণমানসম্পন্ন স্টকিং উপাদান তৈরি করেছে। কর্মসূচিটি প্রমান করে যে, পেন কালচার একটি স্কেলযোগ্য এবং পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতি, যেটি মৎস্য চাষের অগ্রগতিকে সমর্থন করার পাশাপাশি, হ্রাসপ্রাপ্ত দেশীয় মাছের সংখ্যা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।কর্মসূচিটি চলাকালীন ‘ফিল্ড ডে’ এবং ‘হারভেস্ট মেলা’-র আয়োজন করা হয়, যেখানে উৎপাদিত মাছগুলিকে উন্মুক্ত জলাভূমিতে ছেড়ে দেওয়া হয় যাতে মজুত বৃদ্ধি, সংস্কৃতি-ভিত্তিক মৎস্য চাষ এবং দেশীয় মাছের প্রজাতির প্রাকৃতিক অটো-রিক্রুটমেন্ট বা স্বয়ংসাধিতভাবে দেশীয় মাছ মজুত সহজতর হয়। একই সাথে, পেন কালচার ব্যবস্থার অধীনে স্বস্থানে রিক্রুটমেন্টের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করার জন্য স্টকের একটি অংশ পেনের মধ্যেই রেখে দেওয়া হয়, যেটি ভবিষ্যতের জলাভূমি মৎস্য ব্যবস্থাপনা মডেলগুলির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে।কৃষি এবং জলাভূমির মধ্যে পরিবেশগত সংযোগকে স্বীকৃতি দিয়ে, এই কর্মসূচিতে সুষম সার ব্যবহারের ওপর সচেতনতা অভিযানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুষ্টি উপাদানের অপচয় বা রানঅফ কমানো, ইউট্রোফিকেশন -এর ঝুঁকি হ্রাস করা এবং জলাভূমির জলের গুণমানের অবনতি রোধ করার জন্য সার বৈজ্ঞানিক ও বিচক্ষণতার সাথে প্রয়োগ করার বিষয়ে কৃষক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সচেতন করা হয়েছিল। সপ্তাহব্যাপী এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী, কৃষক এবং সম্প্রদায়ের স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে, যা জলাভূমি পরিচালনার প্রতি ক্রমবর্ধমান সচেতনতা এবং যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।আইসিএআর-সিআইএফআরআই এর অধিকর্তা ডঃ প্রদীপ দে-র নির্দেশনায় ডঃ লিয়ানথুয়ামলুয়াইয়া এবং ডঃ সুমন কুমার এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ডঃ দে বলেন যে, জলাভূমিতে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার পরিবেশগত স্থায়িত্ব, পুষ্টি এবং জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল সম্প্রদায়গুলির জীবিকার জন্য অপরিহার্য, পাশাপাশি, এটি ব্লু ইকোনমি র বৃহত্তর লক্ষ্যগুলিতেও অবদান রাখে। তিনি আর-ও বলেন যে, পেন কালচারের মতো প্রকল্পগুলি দেশীয় জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, মৎস্য উৎপাদন কার্যকরভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।বৈজ্ঞানিক হস্তক্ষেপ কিভাবে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশগত সচেতনতার সাথে মিলিত হয়ে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখতে পারে, এই কর্মসূচি সফলভাবে তা প্রদর্শন করেছে। এটি অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং সমন্বিত জলাভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর জাতীয় অগ্রাধিকারগুলির সাথে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *