নিজস্ব সংবাদদাতা,আর এন বিঃ জ্বালানির খরচ বাড়ায় চাপে অটোচালকরা যাত্রীদের উপর বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপার সম্ভাবনা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইউনিয়ন।একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে যাতায়াত খরচও যেন লাগামছাড়া—তারই মধ্যে ফের বাড়ল অটোর এলপিজির দাম। যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে এলপিজির দাম ছিল লিটার প্রতি ৫২ টাকা। দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে অটো এলপিজির নতুন দাম হল লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা। শহরের যাত্রীদের কপালে নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। প্রশ্ন একটাই—এবার কি আবার বাড়বে অটো ভাড়া? সম্প্রতি কলকাতায় অটোচালকদের ব্যবহৃত এলপিজির দামে একাধিক দফায় বৃদ্ধি হয়েছে। কখনও কয়েক দিনের ব্যবধানে ₹৮–₹১২ পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে মোট বৃদ্ধির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে অনেকটাই বেশি। এর আগে এক ধাক্কায় দাম পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ₹৮২.৯৬ প্রতি লিটার—যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অটোচালকদের বক্তব্য,
জ্বালানির দাম বাড়লেও ভাড়া বাড়েনি সেই অনুপাতে, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে ফলে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।
অনেক চালক ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন—“এইভাবে চললে ভাড়া না বাড়িয়ে উপায় নেই। এর আগেও দেখা গেছে, এলপিজির দাম বাড়ার পর কলকাতার বিভিন্ন রুটে অটোভাড়া ₹২ থেকে ₹৫ পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইউনিয়নের নির্দেশ অমান্য করেও চালকেরা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দাম বাড়ার জেরে অনেক অটো রাস্তায় নামছে না। ফলে—যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা। পিক আওয়ারে চরম ভোগান্তি, কিছু রুটে কার্যত অটো সংকট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব পড়ছে ভারতে। বাণিজ্যিক এলপিজির দাম এক ধাক্কায় প্রায় ₹৯৯৩ বেড়েছে সম্প্রতি, যা সামগ্রিক বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। সরকার বা ইউনিয়নের তরফে এখনও ভাড়া বৃদ্ধির কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে— ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চালকদের চাপ বাড়লে ‘অফিসিয়াল’ বা ‘অনঅফিসিয়াল’—দুইভাবেই বাড়তে পারে ভাড়া । অটো এলপিজির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি শহরের গণপরিবহনের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। যাত্রীদের জন্য সামনে আরও খরচ বাড়ার আশঙ্কা, আর চালকদের জন্য লড়াই টিকে থাকার।“মরার উপর খাঁড়ার ঘা”— এটাই এখন চরম বাস্তব। আর এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

