প্রকৃতির কোলে শিল্পের পসরা, হাওড়ায় সোনাঝুরি স্টাইলের হাট

তৎকাল নিউজ ব্ল্যাক নিউজ হট টক হট নিউজ

নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: আর পাঁচটা মেলার থেকে একেবারেই আলাদা এক হাট বসেছে উলুবেড়িয়ায়।যেখানে বিক্রেতা হিসেবে হাজির শিল্পীরাই, আর পণ্য হিসেবে রয়েছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা শিল্পকলা ও জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
উলুবেড়িয়ার মহিষরেখা ব্রিজ সংলগ্ন মাধবপুরে,দামোদর নদীর পাড়ে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছেই বসেছে এই পরিবেশবান্ধব হাট।২৪ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী চলবে এই হাট।তৃতীয় বর্ষে পা দেওয়ায় এবার হাটের আকর্ষণ আরও বেড়েছে।এই হাটে জেলা ও জেলার বাইরের বহু শিল্পী এসেছেন তাঁদের নিজের হাতে তৈরি শিল্পসামগ্রী নিয়ে।পটচিত্র,মেদিনীপুরের বিখ্যাত পট, মাটির জিনিস,হাতে তৈরি পোশাক,শোপিস,পরিবেশবান্ধব বাসনপত্র।সব মিলিয়ে শিল্পের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার সাজানো হয়েছে এই মেলায়।পাশাপাশি রয়েছে বাংলার পুরনো দিনের জনপ্রিয় খাবার, নলেন গুড়,পিঠেপুলি,রস বড়া-সহ নানা ঐতিহ্যবাহী স্বাদ।প্রকৃতির কোলে বাঁধের গা ঘেঁষে বিশাল বটগাছের নিচে সাজানো হয়েছে প্রায় ৩০টি স্টল।নির্জন পরিবেশে শিল্পীরা নিজেদের মতো করে শিল্পকর্মে ব্যস্ত,সেই দৃশ্যই অনেক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করছে।দ্বিতীয় দিনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল হাওড়ার নিজস্ব লোকনৃত্য ‘কালিকা পাতারি’।এই হাটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য পরিবেশ সচেতনতা।এখানে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে কাগজ ও গাছের পাতায়।নলেন গুড় বিক্রি হচ্ছে মাটির পাত্রে।প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই নেই।অনেক মানুষ নিজেরাই পাত্র নিয়ে এসে খাবার ও গুড় সংগ্রহ করছেন।
মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতির সম্পাদিকা জয়িতা কুন্ডু জানান, এই হাটের মূল লক্ষ্য ব্যবসা বাড়ানো নয়।বরং বাংলার হারিয়ে যেতে বসা শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা।তাঁর কথায়,গত তিন বছরে মানুষের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে।পরিবেশ রক্ষায় বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে মানুষ তাও গ্রহণ করতে আগ্রহী।সব মিলিয়ে বলা যায়,এই পরিবেশবান্ধব হাট শুধুমাত্র একটি মেলা নয়,বরং প্রকৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের এক সুন্দর মিলনক্ষেত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *